আজ শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ: দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা, নিয়মিত চিকিৎসা ও সঠিক জীবনযাপন গর্ভাবস্থায় খিঁচুনি: মা ও শিশুকে সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি: চিকিৎসার মানের বাইরে যে প্রশ্নগুলো জরুরি সাতক্ষীরায় বিসিবি’র বয়সভিত্তিক ক্রিকেট প্রাক-বাছাই ২৫ অক্টোবর মহাষ্টমীতে পূজামন্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ পিটিয়ে মারার উদ্দেশ্য ছিল না, দুর্ঘটনাবশত হয়েছে সাতক্ষীরায় ১৯০ সহকারী শিক্ষকের পদায়ন শারদীয় দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি ও সহযোগিতার আহ্বান সৈয়দ ইফতেখার আলীর ভিডিএফের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি বাগেরহাটের শুভ্র, সম্পাদক সাতক্ষীরার হোসেন আলী তরুণদের অংশগ্রহণে খুলনায় তিন দিনব্যাপী ‘স্বাধীনতা প্রকল্প’ প্রশিক্ষণ

পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, সাবেক মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৭:৪১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৬৮ বার পড়া হয়েছে

filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; hdrForward: 0; sv:16.1.8.0.W20; module: photo;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 8;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;HdrStatus: auto;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 44;

পৈত্রিক ও রেকর্ডীয় সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগে সাতক্ষীরা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আরা রুবির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রবাসী শরিফুল ইসলাম। একই সঙ্গে দখল হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন শরিফুল ইসলাম। তিনি সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকার মৃত মো. আবুল কাশেমের ছেলে।

লিখিত বক্তব্যে শরিফুল ইসলাম বলেন, তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে পাড়ি জমান। এ সুযোগে ২০১৮ সালে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে রওশন আরা রুবি ও তার সহযোগীরা দেবহাটা থানার বালিথা মৌজার ‘ধাপার ঘের’ নামের পৈত্রিক ও রেকর্ডীয় সম্পত্তির একটি বড় অংশ দখল করে নেন বলে অভিযোগ তার।

শরিফুলের দাবি, ওই মৌজায় এসএ খতিয়ান নম্বর ৭৯ ও ৮০, দাগ নম্বর ৪১৩ এবং বিএস/বিআরএস খতিয়ান নম্বর ৫৩০, ১৬৯ ও ১১০-এর আওতাধীন ৩৮৪, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৩৮৭ দাগে মোট ৮ দশমিক ২১ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৮ দশমিক ১৫ একর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জমির কাগজপত্র তাদের পক্ষে থাকলেও রওশন আরা রুবি ও তার ছেলে জায়েদ বিন কাদেরসহ সহযোগীরা সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মৎস্য চাষ করে আসছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ও ভয়ভীতির কারণে তারা ওই দখলের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি। গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর দেশে ফিরে তিনি নিজের সম্পত্তি উদ্ধারের উদ্যোগ নেন।

শরিফুলের অভিযোগ, গত ৩ জুলাই সকাল ১০টার দিকে তিনি ওই সম্পত্তিতে গেলে রওশন আরা রুবি, তার ছেলে মো. জায়েদ বিন কাদের এবং আরও কয়েকজনসহ ১০-১৫ জন ব্যক্তি তাকে ও তার স্বজনদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে মৎস্য ঘের থেকে বের করে দেন। এ ঘটনায় তিনি সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিষয়টি মীমাংসার জন্য দেবহাটা থানায় পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।

তবে শরিফুলের দাবি, রওশন আরা রুবি মীমাংসার জন্য থানায় হাজির না হয়ে উল্টো তাদের হুমকি দিয়ে আসছেন।

পরবর্তীতে জেলা বিএনপির কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানান শরিফুল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের তত্ত্বাবধানে এবং সাতক্ষীরা আদালতের জিপির উপস্থিতিতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ওই বৈঠকেও রওশন আরা রুবি সহযোগিতা করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শরিফুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, রওশন আরা রুবি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পত্তি দখলের সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি সংবাদ সম্মেলনে কী ধরনের আইনগত নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন, তা লিখিত বক্তব্যে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সব কাগজপত্র থাকার পরও আমরা নিজেদের জমিতে যেতে পারছি না। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও যদি একজন ব্যক্তি এভাবে সম্পত্তি দখল করে রাখতে পারেন, তাহলে আমরা কোথায় যাব?’

তিনি পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ, দখলমুক্ত করে প্রকৃত মালিকদের কাছে জমি বুঝিয়ে দেওয়া এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রওশন আরা রুবির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

সর্বোচ্চ পঠিত

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ: দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা, নিয়মিত চিকিৎসা ও সঠিক জীবনযাপন

পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, সাবেক মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময়: ০৭:৪১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

পৈত্রিক ও রেকর্ডীয় সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগে সাতক্ষীরা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আরা রুবির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রবাসী শরিফুল ইসলাম। একই সঙ্গে দখল হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন শরিফুল ইসলাম। তিনি সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকার মৃত মো. আবুল কাশেমের ছেলে।

লিখিত বক্তব্যে শরিফুল ইসলাম বলেন, তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে পাড়ি জমান। এ সুযোগে ২০১৮ সালে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে রওশন আরা রুবি ও তার সহযোগীরা দেবহাটা থানার বালিথা মৌজার ‘ধাপার ঘের’ নামের পৈত্রিক ও রেকর্ডীয় সম্পত্তির একটি বড় অংশ দখল করে নেন বলে অভিযোগ তার।

শরিফুলের দাবি, ওই মৌজায় এসএ খতিয়ান নম্বর ৭৯ ও ৮০, দাগ নম্বর ৪১৩ এবং বিএস/বিআরএস খতিয়ান নম্বর ৫৩০, ১৬৯ ও ১১০-এর আওতাধীন ৩৮৪, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৩৮৭ দাগে মোট ৮ দশমিক ২১ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৮ দশমিক ১৫ একর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জমির কাগজপত্র তাদের পক্ষে থাকলেও রওশন আরা রুবি ও তার ছেলে জায়েদ বিন কাদেরসহ সহযোগীরা সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মৎস্য চাষ করে আসছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ও ভয়ভীতির কারণে তারা ওই দখলের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি। গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর দেশে ফিরে তিনি নিজের সম্পত্তি উদ্ধারের উদ্যোগ নেন।

শরিফুলের অভিযোগ, গত ৩ জুলাই সকাল ১০টার দিকে তিনি ওই সম্পত্তিতে গেলে রওশন আরা রুবি, তার ছেলে মো. জায়েদ বিন কাদের এবং আরও কয়েকজনসহ ১০-১৫ জন ব্যক্তি তাকে ও তার স্বজনদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে মৎস্য ঘের থেকে বের করে দেন। এ ঘটনায় তিনি সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিষয়টি মীমাংসার জন্য দেবহাটা থানায় পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।

তবে শরিফুলের দাবি, রওশন আরা রুবি মীমাংসার জন্য থানায় হাজির না হয়ে উল্টো তাদের হুমকি দিয়ে আসছেন।

পরবর্তীতে জেলা বিএনপির কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানান শরিফুল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের তত্ত্বাবধানে এবং সাতক্ষীরা আদালতের জিপির উপস্থিতিতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ওই বৈঠকেও রওশন আরা রুবি সহযোগিতা করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শরিফুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, রওশন আরা রুবি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পত্তি দখলের সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি সংবাদ সম্মেলনে কী ধরনের আইনগত নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন, তা লিখিত বক্তব্যে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সব কাগজপত্র থাকার পরও আমরা নিজেদের জমিতে যেতে পারছি না। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও যদি একজন ব্যক্তি এভাবে সম্পত্তি দখল করে রাখতে পারেন, তাহলে আমরা কোথায় যাব?’

তিনি পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ, দখলমুক্ত করে প্রকৃত মালিকদের কাছে জমি বুঝিয়ে দেওয়া এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রওশন আরা রুবির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।