আজ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ: দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা, নিয়মিত চিকিৎসা ও সঠিক জীবনযাপন গর্ভাবস্থায় খিঁচুনি: মা ও শিশুকে সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি: চিকিৎসার মানের বাইরে যে প্রশ্নগুলো জরুরি সাতক্ষীরায় বিসিবি’র বয়সভিত্তিক ক্রিকেট প্রাক-বাছাই ২৫ অক্টোবর মহাষ্টমীতে পূজামন্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ পিটিয়ে মারার উদ্দেশ্য ছিল না, দুর্ঘটনাবশত হয়েছে সাতক্ষীরায় ১৯০ সহকারী শিক্ষকের পদায়ন শারদীয় দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি ও সহযোগিতার আহ্বান সৈয়দ ইফতেখার আলীর ভিডিএফের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি বাগেরহাটের শুভ্র, সম্পাদক সাতক্ষীরার হোসেন আলী তরুণদের অংশগ্রহণে খুলনায় তিন দিনব্যাপী ‘স্বাধীনতা প্রকল্প’ প্রশিক্ষণ

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ: দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা, নিয়মিত চিকিৎসা ও সঠিক জীবনযাপন

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৪:৫৪:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ: দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা, নিয়মিত চিকিৎসা ও সঠিক জীবনযাপন

লেখক: ডা. মোঃ জাভেদ মেহেদী হোসেন

এমবিবিএস, এফসিপিএস (মেডিসিন)

অ্যাটেন্ডিং কনসালট্যান্ট – ইন্টারনাল মেডিসিন

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম

দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসা শুধু ওষুধ গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করার অভ্যাস। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ এমন দুটি পরিচিত দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যা প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো উপসর্গ সৃষ্টি করে না। ফলে অনেকে রোগ সম্পর্কে জানতে পারেন দেরিতে, আবার রোগ নির্ণয়ের পর উপসর্গ কমে গেলে চিকিৎসা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্বও উপেক্ষা করেন।

কিন্তু সময়মতো রোগ শনাক্ত করা এবং পরিকল্পিতভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হলে এসব রোগের জটিলতার ঝুঁকি কমানো এবং দীর্ঘদিন সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকা অনেকটাই সহজ হয়।

কেন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপকে গুরুত্ব দিতে হবে?

ডায়াবেটিসে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি, চোখ, রক্তনালি ও স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। অন্যদিকে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক এবং কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। একজন ব্যক্তির একই সঙ্গে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তাঁর সামগ্রিক হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সমন্বিত চিকিৎসা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। একইভাবে, ডায়াবেটিসের প্রাথমিক পর্যায়েও রোগী নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে করতে পারেন। তাই শুধু শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিলে চিকিৎসা নেওয়ার পরিবর্তে বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, ওজন এবং অন্যান্য ঝুঁকির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত।

রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রথম পদক্ষেপ: সঠিক সময়ে পরীক্ষা

নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক ফাস্টিং ব্লাড গ্লুকোজ, এইচবিএ১সি (HbA1c), কিডনির কার্যকারিতা, রক্তের লিপিড প্রোফাইল এবং প্রস্রাবের অ্যালবুমিন পরীক্ষা করতে পারেন।

তবে সবার জন্য একই পরীক্ষার সময়সূচি বা একই চিকিৎসা পরিকল্পনা উপযুক্ত নয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা, অন্যান্য রোগ, চলমান ওষুধ এবং ব্যক্তিগত ঝুঁকি বিবেচনা করে চিকিৎসক পরীক্ষা ও ফলোআপের সময় নির্ধারণ করবেন।

ওষুধ নিয়মিত গ্রহণ কেন জরুরি?

দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসায় একটি সাধারণ ভুল হলো, রক্তচাপ বা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক দেখালে নিজে থেকেই ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া। বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই ওষুধের কার্যকারিতার কারণেই এসব মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা, মাত্রা পরিবর্তন করা কিংবা অন্যের ওষুধ গ্রহণ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

কোনো ওষুধে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে বা চিকিৎসা চালিয়ে যেতে অসুবিধা হলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধের ধরন বা মাত্রা পরিবর্তন করা যেতে পারে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে ফলোআপে যাওয়া এবং পরীক্ষার ফলাফল সংরক্ষণ করা দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করে।

জীবনযাপনে পরিবর্তন: চিকিৎসার অপরিহার্য অংশ

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ওষুধের পাশাপাশি দৈনন্দিন অভ্যাসেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সুষম খাদ্যাভ্যাস: শাকসবজি, পরিমিত ফল, ডাল, পূর্ণশস্য এবং উপযুক্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেছে নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত লবণ, মিষ্টিজাতীয় খাবার, চিনিযুক্ত পানীয় এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো দরকার। ডায়াবেটিস থাকলে খাবারের পরিমাণ ও সময় সম্পর্কে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুসরণ করা ভালো।

নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম: শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী হাঁটা বা অন্যান্য ব্যায়াম রক্তের গ্লুকোজ, রক্তচাপ ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণভাবে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম একটি প্রচলিত লক্ষ্য। তবে যাঁদের হৃদ্‌রোগ, গুরুতর শারীরিক সমস্যা বা ব্যায়ামে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাঁদের উপযুক্ত কার্যক্রম চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা উচিত।

ওজন ও ঘুমের প্রতি যত্ন: অতিরিক্ত ওজন থাকলে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ওজন কমানো উপকারী হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত দৈনন্দিন রুটিন বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

তামাক পরিহার: ধূমপান ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্য হৃদ্‌রোগ এবং রক্তনালির জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই তামাক পরিহার দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জটিলতা প্রতিরোধে নিয়মিত ফলোআপ

দীর্ঘস্থায়ী রোগ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য শুধু পরীক্ষার রিপোর্টে নির্দিষ্ট মাত্রা অর্জন নয়; বরং রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ জটিলতার ঝুঁকি কমানো। এ কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তচাপ, রক্তের গ্লুকোজ, কিডনির কার্যকারিতা, চোখ এবং পায়ের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষ করে ডায়াবেটিসে পায়ে ক্ষত, অসাড়তা বা সংক্রমণের লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। নতুন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে নির্ধারিত ফলোআপের জন্য অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বুকে ব্যথা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, মুখ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া বা কথা বলতে অসুবিধার মতো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। এসব লক্ষণ গুরুতর হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকের ইঙ্গিত হতে পারে।

রোগী ও পরিবারের সচেতনতাই দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের ভিত্তি

দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণে রোগীর পাশাপাশি পরিবারের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত হাঁটা, ওষুধের সময় মনে রাখা এবং চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন। রোগীকে ভয় দেখানো বা দোষারোপ করার পরিবর্তে তাঁকে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করা উচিত।

মনে রাখতে হবে, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত চিকিৎসা, সচেতন জীবনযাপন এবং ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসা পরিকল্পনা রোগীকে আরও সুস্থ, সক্রিয় ও মানসম্মত জীবনযাপনে সহায়তা করতে পারে।

সুস্থ থাকার জন্য উপসর্গের অপেক্ষা নয়—সময়মতো পরীক্ষা, সঠিক চিকিৎসা এবং নিয়মিত ফলোআপের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম

ইমার্জেন্সি ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট: 09610800444

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

সর্বোচ্চ পঠিত

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ: দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা, নিয়মিত চিকিৎসা ও সঠিক জীবনযাপন

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ: দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা, নিয়মিত চিকিৎসা ও সঠিক জীবনযাপন

আপডেট সময়: ০৪:৫৪:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ: দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা, নিয়মিত চিকিৎসা ও সঠিক জীবনযাপন

লেখক: ডা. মোঃ জাভেদ মেহেদী হোসেন

এমবিবিএস, এফসিপিএস (মেডিসিন)

অ্যাটেন্ডিং কনসালট্যান্ট – ইন্টারনাল মেডিসিন

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম

দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসা শুধু ওষুধ গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করার অভ্যাস। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ এমন দুটি পরিচিত দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যা প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো উপসর্গ সৃষ্টি করে না। ফলে অনেকে রোগ সম্পর্কে জানতে পারেন দেরিতে, আবার রোগ নির্ণয়ের পর উপসর্গ কমে গেলে চিকিৎসা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্বও উপেক্ষা করেন।

কিন্তু সময়মতো রোগ শনাক্ত করা এবং পরিকল্পিতভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হলে এসব রোগের জটিলতার ঝুঁকি কমানো এবং দীর্ঘদিন সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকা অনেকটাই সহজ হয়।

কেন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপকে গুরুত্ব দিতে হবে?

ডায়াবেটিসে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি, চোখ, রক্তনালি ও স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। অন্যদিকে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক এবং কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। একজন ব্যক্তির একই সঙ্গে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তাঁর সামগ্রিক হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সমন্বিত চিকিৎসা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। একইভাবে, ডায়াবেটিসের প্রাথমিক পর্যায়েও রোগী নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে করতে পারেন। তাই শুধু শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিলে চিকিৎসা নেওয়ার পরিবর্তে বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, ওজন এবং অন্যান্য ঝুঁকির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত।

রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রথম পদক্ষেপ: সঠিক সময়ে পরীক্ষা

নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক ফাস্টিং ব্লাড গ্লুকোজ, এইচবিএ১সি (HbA1c), কিডনির কার্যকারিতা, রক্তের লিপিড প্রোফাইল এবং প্রস্রাবের অ্যালবুমিন পরীক্ষা করতে পারেন।

তবে সবার জন্য একই পরীক্ষার সময়সূচি বা একই চিকিৎসা পরিকল্পনা উপযুক্ত নয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা, অন্যান্য রোগ, চলমান ওষুধ এবং ব্যক্তিগত ঝুঁকি বিবেচনা করে চিকিৎসক পরীক্ষা ও ফলোআপের সময় নির্ধারণ করবেন।

ওষুধ নিয়মিত গ্রহণ কেন জরুরি?

দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসায় একটি সাধারণ ভুল হলো, রক্তচাপ বা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক দেখালে নিজে থেকেই ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া। বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই ওষুধের কার্যকারিতার কারণেই এসব মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা, মাত্রা পরিবর্তন করা কিংবা অন্যের ওষুধ গ্রহণ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

কোনো ওষুধে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে বা চিকিৎসা চালিয়ে যেতে অসুবিধা হলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধের ধরন বা মাত্রা পরিবর্তন করা যেতে পারে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে ফলোআপে যাওয়া এবং পরীক্ষার ফলাফল সংরক্ষণ করা দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করে।

জীবনযাপনে পরিবর্তন: চিকিৎসার অপরিহার্য অংশ

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ওষুধের পাশাপাশি দৈনন্দিন অভ্যাসেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সুষম খাদ্যাভ্যাস: শাকসবজি, পরিমিত ফল, ডাল, পূর্ণশস্য এবং উপযুক্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেছে নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত লবণ, মিষ্টিজাতীয় খাবার, চিনিযুক্ত পানীয় এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো দরকার। ডায়াবেটিস থাকলে খাবারের পরিমাণ ও সময় সম্পর্কে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুসরণ করা ভালো।

নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম: শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী হাঁটা বা অন্যান্য ব্যায়াম রক্তের গ্লুকোজ, রক্তচাপ ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণভাবে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম একটি প্রচলিত লক্ষ্য। তবে যাঁদের হৃদ্‌রোগ, গুরুতর শারীরিক সমস্যা বা ব্যায়ামে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাঁদের উপযুক্ত কার্যক্রম চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা উচিত।

ওজন ও ঘুমের প্রতি যত্ন: অতিরিক্ত ওজন থাকলে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ওজন কমানো উপকারী হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত দৈনন্দিন রুটিন বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

তামাক পরিহার: ধূমপান ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্য হৃদ্‌রোগ এবং রক্তনালির জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই তামাক পরিহার দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জটিলতা প্রতিরোধে নিয়মিত ফলোআপ

দীর্ঘস্থায়ী রোগ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য শুধু পরীক্ষার রিপোর্টে নির্দিষ্ট মাত্রা অর্জন নয়; বরং রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ জটিলতার ঝুঁকি কমানো। এ কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তচাপ, রক্তের গ্লুকোজ, কিডনির কার্যকারিতা, চোখ এবং পায়ের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষ করে ডায়াবেটিসে পায়ে ক্ষত, অসাড়তা বা সংক্রমণের লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। নতুন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে নির্ধারিত ফলোআপের জন্য অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বুকে ব্যথা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, মুখ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া বা কথা বলতে অসুবিধার মতো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। এসব লক্ষণ গুরুতর হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকের ইঙ্গিত হতে পারে।

রোগী ও পরিবারের সচেতনতাই দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের ভিত্তি

দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণে রোগীর পাশাপাশি পরিবারের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত হাঁটা, ওষুধের সময় মনে রাখা এবং চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন। রোগীকে ভয় দেখানো বা দোষারোপ করার পরিবর্তে তাঁকে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করা উচিত।

মনে রাখতে হবে, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত চিকিৎসা, সচেতন জীবনযাপন এবং ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসা পরিকল্পনা রোগীকে আরও সুস্থ, সক্রিয় ও মানসম্মত জীবনযাপনে সহায়তা করতে পারে।

সুস্থ থাকার জন্য উপসর্গের অপেক্ষা নয়—সময়মতো পরীক্ষা, সঠিক চিকিৎসা এবং নিয়মিত ফলোআপের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম

ইমার্জেন্সি ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট: 09610800444