ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে নদীর পাড়। কোথাও জোয়ারের পানিতে ডুবে আছে জনপদ, কোথাও নোনা পানির সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করছে মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের পাশে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার কথা বলছেন স্থানীয়রা। আবার শত প্রতিকূলতার মাঝেও নিজস্ব সংস্কৃতি আঁকড়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে উপকূলের মুন্ডা সম্প্রদায়। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তব চিত্র কাছ থেকে দেখতে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় আয়োজন করা হয় ‘জলবায়ু শিক্ষা বিনিময় পরিদর্শন সিরিজ-২০২৬।
বুধবার দিনব্যাপী আশাশুনি, শ্যামনগর ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করেন গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার ইয়ুথ টিমের সদস্যরা। তারা নদীভাঙনের ক্ষতচিহ্ন, জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জনপদ, ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-জীবিকার বাস্তব চিত্র প্রত্যক্ষ করেন। পাশাপাশি উপকূলের প্রান্তিক মুন্ডা সম্প্রদায়ের জীবনসংগ্রাম, সংস্কৃতি এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন স্থানীয়রা।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হেড-এর উদ্যোগে ‘কমিউনিটি অ্যাকশন ফর ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই জলবায়ু অভিযাত্রার আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন ও ক্লাইমেট জাস্টিস রেজিলিয়েন্স ফান্ড।
দিনব্যাপী পরিদর্শন শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় হেডের নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় অভিঘাত বহন করছে উপকূলের মানুষ। তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও অভিযোজনের গল্প নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা জরুরি। তরুণদের সম্পৃক্ত করে স্থানীয় কমিউনিটিকে সঙ্গে নিয়ে টেকসই অভিযোজন কৌশল গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এ ধরনের শিক্ষা বিনিময়মূলক কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার ইয়ুথ টিমের সদস্য এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার 









