ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলার চারটি সংসদীয় আসনে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে।
বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে মাঠে নেমে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২০ জন প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছেন। বুধবার প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার থেকে বিভিন্ন এলাকায় সভা, সমাবেশ, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
তবে প্রচারণার প্রথম দিনেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ–আশাশুনি) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হাফেজ মুহা. রবিউল বাশারের বিরুদ্ধে পোস্টার ব্যবহার করে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার।
এদিকে, সাতক্ষীরা-৩ আসনের কালিগঞ্জ উপজেলায় জামায়াত প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশারকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ায় সংবর্ধনা সভা ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কালিগঞ্জের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মাঠে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। সভা শেষে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সাতক্ষীরা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা শহর ও গ্রামাঞ্চলে পৃথক পৃথক সভা, পথসভা ও গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেন। বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন প্রার্থীরা।
সাতক্ষীরা-১ (তালা–কলারোয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে গণসংযোগ শুরু করেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব। সকাল থেকে তালা ও কলারোয়ার বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ভোট প্রার্থনা করেন।
এছাড়া সাতক্ষীরা-৪ আসনেও স্বতন্ত্র ও দলীয় প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় সভা, আলোচনা সভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে প্রচারণা চালান।
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফরোজা আখতার বলেন, কেউ নির্বাচনী পরিবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। জাতির সামনে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়াই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এসব ভোটার ৬০৯টি ভোটকেন্দ্রের ৩ হাজার ৪১০টি ভোটকক্ষে ভোট দেবেন। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠ পর্যায়ে সর্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।
রিপোর্টার 










