আজ রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
ছাত্রদল নেতার পিতার মৃত্যুতে বিএনপি নেতা মিঠু খানের শোক ভিডিএফের সাতক্ষীরা জেলা নির্বাহী কমিটি নির্বাচনে সভাপতি হোসেন আলী, সম্পাদক ইব্রাহিম যৌতুকের মামলায় আশাশুনির সাবেক এসিল্যান্ড কারাগারে নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সভাপতির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে শিক্ষকদের জোরপূর্বক স্বাক্ষর, দ্বন্দ্বের প্রভাব এসএসসি ফলাফলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা জানতে সাতক্ষীরার উপকূলে দিনব্যাপী অভিযাত্রা পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, সাবেক মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’ অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় নদী-খাল পুনরুদ্ধার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক পরামর্শ সভা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা নেটওয়ার্কের সাধারণ সভা জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল

অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ৩৫ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০১:১৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • ৭১ বার পড়া হয়েছে

দেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাসহ সকল ধরনের অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ‘হোল-অব-গভর্নমেন্ট’ বা সর্বাত্মক সরকারি উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে গঠিত ‘অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সমন্বয় কমিটির প্রথম উচ্চ পর্যায়ের সভা সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষরকারী ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করে। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ।

অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণকে সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, গতানুগতিক চিন্তার বাইরে গিয়ে নতুন ও উদ্ভাবনী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, সুস্থ থাকার জন্য জনসাধারণকে হাঁটাচলা ও কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। কোনো কোনো দেশে জনসাধারণকে প্রতিদিন অন্তত ৩ কিমি হাঁটাচলা করতে দেখেছি। আমরা যদি মানুষকে বুঝাতে পারি ওষুধ বা চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে জোর দেওয়া দরকার তাহলে অসংক্রামক রোগ কমে আসবে।

বর্তমানে দেশে ৭১ শতাংশেরও বেশি মৃত্যুর জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ। এর মধ্যে প্রায় ৫১ শতাংশ মৃত্যুই অকালপ্রাপ্ত, যা দেশের অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও জাতীয় টেকসই উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট সরকারের ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের যৌথ অংশগ্রহণে একটি ঐতিহাসিক ‘যৌথ ঘোষণা’ স্বাক্ষরিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ‘হোল-অব-গভর্নমেন্ট’ পদ্ধতি নিশ্চিত করতে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে এই সমন্বয় কমিটি গঠন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

সভায় আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ১ মাসের মধ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ যৌথ ঘোষণা বাস্তবায়ন, সমন্বয় এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রদানের জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা (ফোকাল পয়েন্ট) মনোনয়ন দেবে।

মনোনীত ফোকাল পয়েন্টদের জন্য অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর সুপারিশকৃত এবং যৌথ ঘোষণা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত দিক-নির্দেশনা বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন দেওয়া হবে।

আগামী ১ থেকে ৩ মাসের মধ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নিজ নিজ খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে, যার মধ্যে মনিটরিং কাঠামো ও পরিমাপযোগ্য সূচক অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সভায় ‘Health in All Policies’ বা ‘সব নীতিতে স্বাস্থ্য’ নীতিগত দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া দেশব্যাপী সর্বাত্মক সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, সম্পদ ও কারিগরি সহায়তার সংস্থান, নিয়মিত অগ্রগতি তদারকি এবং মাঠ পর্যায়ের প্রতিবন্ধকতা নিরসনে কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব কারিগরি সহায়তা প্রদানে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এছাড়াও সভায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব, সচিববৃন্দ এবং মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে এবং যৌথ ঘোষণা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে তাদের অভিজ্ঞতা প্রসূত মতামত, পর্যবেক্ষণ ও গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশসমূহ উপস্থাপন করেন।

সূত্র : বাসস

 

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

সর্বোচ্চ পঠিত

ছাত্রদল নেতার পিতার মৃত্যুতে বিএনপি নেতা মিঠু খানের শোক

অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ৩৫ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ

আপডেট সময়: ০১:১৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

দেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাসহ সকল ধরনের অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ‘হোল-অব-গভর্নমেন্ট’ বা সর্বাত্মক সরকারি উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে গঠিত ‘অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সমন্বয় কমিটির প্রথম উচ্চ পর্যায়ের সভা সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষরকারী ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করে। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ।

অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণকে সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, গতানুগতিক চিন্তার বাইরে গিয়ে নতুন ও উদ্ভাবনী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, সুস্থ থাকার জন্য জনসাধারণকে হাঁটাচলা ও কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। কোনো কোনো দেশে জনসাধারণকে প্রতিদিন অন্তত ৩ কিমি হাঁটাচলা করতে দেখেছি। আমরা যদি মানুষকে বুঝাতে পারি ওষুধ বা চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে জোর দেওয়া দরকার তাহলে অসংক্রামক রোগ কমে আসবে।

বর্তমানে দেশে ৭১ শতাংশেরও বেশি মৃত্যুর জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ। এর মধ্যে প্রায় ৫১ শতাংশ মৃত্যুই অকালপ্রাপ্ত, যা দেশের অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও জাতীয় টেকসই উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট সরকারের ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের যৌথ অংশগ্রহণে একটি ঐতিহাসিক ‘যৌথ ঘোষণা’ স্বাক্ষরিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ‘হোল-অব-গভর্নমেন্ট’ পদ্ধতি নিশ্চিত করতে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে এই সমন্বয় কমিটি গঠন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

সভায় আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ১ মাসের মধ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ যৌথ ঘোষণা বাস্তবায়ন, সমন্বয় এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রদানের জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা (ফোকাল পয়েন্ট) মনোনয়ন দেবে।

মনোনীত ফোকাল পয়েন্টদের জন্য অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর সুপারিশকৃত এবং যৌথ ঘোষণা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত দিক-নির্দেশনা বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন দেওয়া হবে।

আগামী ১ থেকে ৩ মাসের মধ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নিজ নিজ খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে, যার মধ্যে মনিটরিং কাঠামো ও পরিমাপযোগ্য সূচক অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সভায় ‘Health in All Policies’ বা ‘সব নীতিতে স্বাস্থ্য’ নীতিগত দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া দেশব্যাপী সর্বাত্মক সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, সম্পদ ও কারিগরি সহায়তার সংস্থান, নিয়মিত অগ্রগতি তদারকি এবং মাঠ পর্যায়ের প্রতিবন্ধকতা নিরসনে কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব কারিগরি সহায়তা প্রদানে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এছাড়াও সভায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব, সচিববৃন্দ এবং মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে এবং যৌথ ঘোষণা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে তাদের অভিজ্ঞতা প্রসূত মতামত, পর্যবেক্ষণ ও গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশসমূহ উপস্থাপন করেন।

সূত্র : বাসস