আজ শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত সভাপতি মনির, সাধারণ সম্পাদক লিটন ব্যাংকের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে গোরস্থান ও মাদ্রাসার জায়গা দখলের চেষ্টা সামাদ গংয়ের ছাত্রদল নেতার পিতার মৃত্যুতে বিএনপি নেতা মিঠু খানের শোক ভিডিএফের সাতক্ষীরা জেলা নির্বাহী কমিটি নির্বাচনে সভাপতি হোসেন আলী, সম্পাদক ইব্রাহিম যৌতুকের মামলায় আশাশুনির সাবেক এসিল্যান্ড কারাগারে নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সভাপতির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে শিক্ষকদের জোরপূর্বক স্বাক্ষর, দ্বন্দ্বের প্রভাব এসএসসি ফলাফলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা জানতে সাতক্ষীরার উপকূলে দিনব্যাপী অভিযাত্রা পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, সাবেক মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’ অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় নদী-খাল পুনরুদ্ধার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক পরামর্শ সভা

ব্যাংকের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে গোরস্থান ও মাদ্রাসার জায়গা দখলের চেষ্টা সামাদ গংয়ের

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৩:০৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৫ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও ১৪৫ ধারা অগ্রাহ্য করে এবার গোরস্থান, দরগা ও মাদ্রাসাসংলগ্ন কোটি টাকার পৈতৃক সম্পত্তি দখলের নতুন পাঁতারা শুরু করেছে আব্দুস সামাদ ও তার চক্র। কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা ছাড়া নিজেই একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের ভুয়া সাইনবোর্ড ও টলঘর বসিয়ে জায়গাটি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

মামলার নথি অনুযায়ী, দেবহাটা থানার পারুলিয়া মৌজার আরএস ৩৫৭৫৩ ও ৩৫৭৫৬ (এসএ দাগ ১১২০৩) নম্বর দাগের সম্পত্তি নিয়ে গোলাম মহিউদ্দিন রনির সাথে আব্দুস সামাদের মামলা চলছে। ইতিপূর্বে নোটিশ থাকা সত্ত্বেও সেখানে দোকান বসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এবার তার সাথে যুক্ত হয়েছে ধর্মীয় স্থাপনা ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সংলগ্ন জমি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের চেষ্টা।

এ বিষয়ে বেসিক ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মৃত্যুঞ্জয় কুমার গায়েন বলেন, ব্যাংকের সাইনবোর্ডটি আমাদের পক্ষ থেকে লাগানো হয়নি। বিষয়টি জানা মাত্রই আব্দুস সামাদকে বারবার সাইনবোর্ডটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হলেও সে তা তোলেনি।

এলাকাবাসীর মধ্যে সামাদ ও তার গংদের এমন অপকর্মে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ৬০ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল ওহাব গাজী বলেন, জন্ম থেকেই দেখে আসছি এই জায়গাটি গোলাম নবী সাহেবদের। এখানে ১০০ বছরের পুরোনো তেঁতুল গাছ, উনাদের পৈতৃক গোরস্থান, একটি ঐতিহ্যবাহী দরগা এবং মাদ্রাসা রয়েছে। গত ৩০-৩৫ বছর ধরে আমি তাদের কাছ থেকে এই জমি ও ঘের লিজ নিয়ে দেখাশোনা করছি। হঠাৎ করেই সামাদ এসে গায়ের জোরে টল বসিয়ে ব্যাংকের ভুয়া সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছে।

সামাদকে ‘চিহ্নিত ও প্রথম শ্রেণীর প্রতারক’ উল্লেখ করে ৭৫ বছর বয়সী আব্দুল মজিদ জানান, ১৯৬৫ সাল থেকে এই এলাকায় আছি, কিন্তু সামাদ বা তার পরিবারকে কখনো এই কাছারি বাড়ি ও পাশের খামারবাড়ি ভোগদখল করতে দেখিনি। এর আগে অন্য একটি ঘের দখলের অপরাধে সামাদ, তার বাবা ও ভাইসহ তিনজনের ৫ বছর করে জেল হয়েছিল। সে মামলায় হেরে জামিনে বেরিয়ে এসে এখন গায়ের জোরে ১১২০৩ দাগের জমি দখল করতে চাইছে।

সখিপুরের প্রবীণ বাসিন্দা মাওলা বকস গাজী (৭৩) বলেন, সামাদ এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু। একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়েও সে জালিয়াতি থামায়নি। ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যবাহী এই সম্পত্তি রক্ষায় এই ভন্ডকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও উচ্ছেদ করার জন্য আমরা প্রশাসনের আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুস সামাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দেবহাটা থানার এএসআই আকিজুর রহমান বলেন, আদালতের নোটিশ পেয়ে আমরা সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এসেছি। কোন পক্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত সভাপতি মনির, সাধারণ সম্পাদক লিটন

ব্যাংকের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে গোরস্থান ও মাদ্রাসার জায়গা দখলের চেষ্টা সামাদ গংয়ের

আপডেট সময়: ০৩:০৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও ১৪৫ ধারা অগ্রাহ্য করে এবার গোরস্থান, দরগা ও মাদ্রাসাসংলগ্ন কোটি টাকার পৈতৃক সম্পত্তি দখলের নতুন পাঁতারা শুরু করেছে আব্দুস সামাদ ও তার চক্র। কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা ছাড়া নিজেই একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের ভুয়া সাইনবোর্ড ও টলঘর বসিয়ে জায়গাটি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

মামলার নথি অনুযায়ী, দেবহাটা থানার পারুলিয়া মৌজার আরএস ৩৫৭৫৩ ও ৩৫৭৫৬ (এসএ দাগ ১১২০৩) নম্বর দাগের সম্পত্তি নিয়ে গোলাম মহিউদ্দিন রনির সাথে আব্দুস সামাদের মামলা চলছে। ইতিপূর্বে নোটিশ থাকা সত্ত্বেও সেখানে দোকান বসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এবার তার সাথে যুক্ত হয়েছে ধর্মীয় স্থাপনা ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সংলগ্ন জমি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের চেষ্টা।

এ বিষয়ে বেসিক ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মৃত্যুঞ্জয় কুমার গায়েন বলেন, ব্যাংকের সাইনবোর্ডটি আমাদের পক্ষ থেকে লাগানো হয়নি। বিষয়টি জানা মাত্রই আব্দুস সামাদকে বারবার সাইনবোর্ডটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হলেও সে তা তোলেনি।

এলাকাবাসীর মধ্যে সামাদ ও তার গংদের এমন অপকর্মে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ৬০ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল ওহাব গাজী বলেন, জন্ম থেকেই দেখে আসছি এই জায়গাটি গোলাম নবী সাহেবদের। এখানে ১০০ বছরের পুরোনো তেঁতুল গাছ, উনাদের পৈতৃক গোরস্থান, একটি ঐতিহ্যবাহী দরগা এবং মাদ্রাসা রয়েছে। গত ৩০-৩৫ বছর ধরে আমি তাদের কাছ থেকে এই জমি ও ঘের লিজ নিয়ে দেখাশোনা করছি। হঠাৎ করেই সামাদ এসে গায়ের জোরে টল বসিয়ে ব্যাংকের ভুয়া সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছে।

সামাদকে ‘চিহ্নিত ও প্রথম শ্রেণীর প্রতারক’ উল্লেখ করে ৭৫ বছর বয়সী আব্দুল মজিদ জানান, ১৯৬৫ সাল থেকে এই এলাকায় আছি, কিন্তু সামাদ বা তার পরিবারকে কখনো এই কাছারি বাড়ি ও পাশের খামারবাড়ি ভোগদখল করতে দেখিনি। এর আগে অন্য একটি ঘের দখলের অপরাধে সামাদ, তার বাবা ও ভাইসহ তিনজনের ৫ বছর করে জেল হয়েছিল। সে মামলায় হেরে জামিনে বেরিয়ে এসে এখন গায়ের জোরে ১১২০৩ দাগের জমি দখল করতে চাইছে।

সখিপুরের প্রবীণ বাসিন্দা মাওলা বকস গাজী (৭৩) বলেন, সামাদ এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু। একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়েও সে জালিয়াতি থামায়নি। ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যবাহী এই সম্পত্তি রক্ষায় এই ভন্ডকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও উচ্ছেদ করার জন্য আমরা প্রশাসনের আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুস সামাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দেবহাটা থানার এএসআই আকিজুর রহমান বলেন, আদালতের নোটিশ পেয়ে আমরা সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এসেছি। কোন পক্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।