সাতক্ষীরায় ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ১৩ বছর বয়সী কিশোর তাহসিনের স্বজনরা। তাদের দাবি, সময়মতো চিকিৎসা, অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ায় প্রাণ হারাতে হয়েছে তাহসিনকে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নিহত তাহসিন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদহা গ্রামের মান্নান হোসেনের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে নারকেল গাছে উঠতে গিয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় তাহসিন। পরে তাকে দ্রুত সাতক্ষীরা ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় দায়িত্বরত কোনো চিকিৎসক ও নার্সকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্বজনদের ভাষ্য, দুপুর দেড়টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. অসীম কুমার সরকার এসে রোগীকে দেখেন এবং কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেন। পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হলেও রিপোর্ট পেতে রাত ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। পরে চিকিৎসক জানান, তাহসিনের ফুসফুসে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং সেখানে তার চিকিৎসা সম্ভব নয়।
তাহসিনের এক স্বজন বলেন, “ছেলেটার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়নি। ডাক্তার-নার্স কাউকেই ঠিকমতো পাওয়া যায়নি। আমরা অন্য হাসপাতালে নেওয়ার কথাও বলেছিলাম, কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।”
পরিবারের অভিযোগ, তাহসিনের অবস্থার অবনতি হলেও হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা ছিল না। অথচ তার জরুরি ভিত্তিতে নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন ছিল। চিকিৎসা বাবদ প্রায় ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায়নি বলেও দাবি তাদের।
এ বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা ট্রমা সেন্টারের মালিক ডা. হাফিজ উল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তবে হাসপাতালের ম্যানেজার জনি অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “তাহসিনের চিকিৎসায় কোনো অবহেলা হয়নি। চিকিৎসকরা নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।”
প্রথমে তিনি মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তাহসিনের মৃত্যুর ঘটনা স্বীকার করেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।
রিপোর্টার 
















