আজ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ: দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা, নিয়মিত চিকিৎসা ও সঠিক জীবনযাপন গর্ভাবস্থায় খিঁচুনি: মা ও শিশুকে সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি: চিকিৎসার মানের বাইরে যে প্রশ্নগুলো জরুরি সাতক্ষীরায় বিসিবি’র বয়সভিত্তিক ক্রিকেট প্রাক-বাছাই ২৫ অক্টোবর মহাষ্টমীতে পূজামন্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ পিটিয়ে মারার উদ্দেশ্য ছিল না, দুর্ঘটনাবশত হয়েছে সাতক্ষীরায় ১৯০ সহকারী শিক্ষকের পদায়ন শারদীয় দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি ও সহযোগিতার আহ্বান সৈয়দ ইফতেখার আলীর ভিডিএফের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি বাগেরহাটের শুভ্র, সম্পাদক সাতক্ষীরার হোসেন আলী তরুণদের অংশগ্রহণে খুলনায় তিন দিনব্যাপী ‘স্বাধীনতা প্রকল্প’ প্রশিক্ষণ

১৯৯৬ সালের ভবন এখন মৃ’ত্যু–ফাঁদ! চাম্পাফুল স্কুলে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি

সাতক্ষীরা চাম্পাফুল ইউনিয়নের ৮৬নং চাম্পাফুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও মেরামত বা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ মেলেনি। ভবনের ভেতর ও বাইরে দেয়াল, পিলার, বীমে বড় বড় ফাটল—অনেক স্থানে রড বের হয়ে আছে। ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে তৈরি হয়েছে গর্ত; বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের বই–খাতা। ঝুঁকির কারণে কয়েকটি কক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

১৯৯৬ সালে নির্মিত তিন কক্ষের এই ভবনের একটি কক্ষ অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাকি দুই কক্ষে দুই শিফটে চলছে পাঠদান। ছাদের একাধিক অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নিয়মিত প্লাস্টার খসে পড়ে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ক্লাস করতে গেলেই আতঙ্ক লেগে থাকে—হঠাৎ কিছু পড়ে গেলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বিদ্যালয়সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়দের উদ্যোগে ১৯১০ সালে ৪৮ শতক জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম ভবন ছিল টিনশেড, যা বহু বছর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার পর ২০১৯ সালে নিলাম করা হয়। এরপর ১৯৯৬ সালের ভবনটিও এখন প্রায় ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পিইডিপি-২ প্রকল্পে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে নির্মিত অপর দুই কক্ষের ভবনেও স্থান সংকট তীব্র।

প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আটজন শিক্ষককে মাত্র দুই ভবনে ৩১১ শিক্ষার্থীর পাঠদান সামলাতে হচ্ছে। পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, ‘ভাঙা কক্ষে ক্লাস করতে খুব ভয় লাগে। ছাদ থেকে প্লাস্টার পড়েই যায়।’

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাহানা খাতুন বলেন, ২০১১ সালে যোগদানের সময় থেকেই ভবনটির অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তিনি জানান, অভিভাবকদের বড় অংশ এখন সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে পাঠাতে আগ্রহী—জীর্ণ ভবন তাদের আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলছে। বহুবার নতুন ভবনের জন্য চিঠি দিলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩১১ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় নতুন ভবন নির্মাণ এখন অত্যন্ত জরুরি।” তিনি জানান, পিইডিপি-৫ এর আওতায় নতুন ভবনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং অনুমোদনের বিষয়ে আশাবাদী।

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের দাবি—দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

সর্বোচ্চ পঠিত

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ: দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা, নিয়মিত চিকিৎসা ও সঠিক জীবনযাপন

১৯৯৬ সালের ভবন এখন মৃ’ত্যু–ফাঁদ! চাম্পাফুল স্কুলে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি

আপডেট সময়: ০৫:৪৯:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

সাতক্ষীরা চাম্পাফুল ইউনিয়নের ৮৬নং চাম্পাফুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও মেরামত বা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ মেলেনি। ভবনের ভেতর ও বাইরে দেয়াল, পিলার, বীমে বড় বড় ফাটল—অনেক স্থানে রড বের হয়ে আছে। ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে তৈরি হয়েছে গর্ত; বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের বই–খাতা। ঝুঁকির কারণে কয়েকটি কক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

১৯৯৬ সালে নির্মিত তিন কক্ষের এই ভবনের একটি কক্ষ অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাকি দুই কক্ষে দুই শিফটে চলছে পাঠদান। ছাদের একাধিক অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নিয়মিত প্লাস্টার খসে পড়ে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ক্লাস করতে গেলেই আতঙ্ক লেগে থাকে—হঠাৎ কিছু পড়ে গেলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বিদ্যালয়সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়দের উদ্যোগে ১৯১০ সালে ৪৮ শতক জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম ভবন ছিল টিনশেড, যা বহু বছর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার পর ২০১৯ সালে নিলাম করা হয়। এরপর ১৯৯৬ সালের ভবনটিও এখন প্রায় ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পিইডিপি-২ প্রকল্পে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে নির্মিত অপর দুই কক্ষের ভবনেও স্থান সংকট তীব্র।

প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আটজন শিক্ষককে মাত্র দুই ভবনে ৩১১ শিক্ষার্থীর পাঠদান সামলাতে হচ্ছে। পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, ‘ভাঙা কক্ষে ক্লাস করতে খুব ভয় লাগে। ছাদ থেকে প্লাস্টার পড়েই যায়।’

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাহানা খাতুন বলেন, ২০১১ সালে যোগদানের সময় থেকেই ভবনটির অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তিনি জানান, অভিভাবকদের বড় অংশ এখন সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে পাঠাতে আগ্রহী—জীর্ণ ভবন তাদের আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলছে। বহুবার নতুন ভবনের জন্য চিঠি দিলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩১১ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় নতুন ভবন নির্মাণ এখন অত্যন্ত জরুরি।” তিনি জানান, পিইডিপি-৫ এর আওতায় নতুন ভবনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং অনুমোদনের বিষয়ে আশাবাদী।

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের দাবি—দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।