আজ সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
ছাত্রদল নেতার পিতার মৃত্যুতে বিএনপি নেতা মিঠু খানের শোক ভিডিএফের সাতক্ষীরা জেলা নির্বাহী কমিটি নির্বাচনে সভাপতি হোসেন আলী, সম্পাদক ইব্রাহিম যৌতুকের মামলায় আশাশুনির সাবেক এসিল্যান্ড কারাগারে নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সভাপতির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে শিক্ষকদের জোরপূর্বক স্বাক্ষর, দ্বন্দ্বের প্রভাব এসএসসি ফলাফলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা জানতে সাতক্ষীরার উপকূলে দিনব্যাপী অভিযাত্রা পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, সাবেক মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’ অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় নদী-খাল পুনরুদ্ধার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক পরামর্শ সভা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা নেটওয়ার্কের সাধারণ সভা জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল

ফেসবুক পোস্ট ডিলেটকে কেন্দ্র করে সরকারি বালক বিদ্যালয়ে সংঘর্ষে আহত ৩ শিক্ষার্থী!

  • আব্দুর রহমান
  • আপডেট সময়: ০১:৩৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২১০ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয়ে আবারও সহিংসতা! ফেসবুকে ভিডিও–পোস্ট ডিলেট না করাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) জুনিয়র–সিনিয়র দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত হয়েছে তিন শিক্ষার্থী। অষ্টম শ্রেণির ইরফান আজম খান ও আরেফিন চৌধুরী, এবং সপ্তম শ্রেণির বাদশাহ শিহাবুল গুরুতর আঘাত পায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি—লোহার স্কেল, কলম ও ইট দিয়ে তাদের ওপর হামলা করা হয়। এরই মধ্যে আরেক পক্ষ প্রতিশোধ হিসেবে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ভাই ভাই মোটরসাইকেল শো রুমে’ হামলা চালিয়েছে—যার ভিডিও ইতোমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল। শুধু তাই নয়, মঙ্গলবারও শিক্ষক আন্দোলনের কারণে পরীক্ষা বন্ধ, সাংবাদিক হেনস্তা, ছাত্র বিভক্তি—সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এক গভীর সংকটে।

মূল সংকট কোথায়?
🔸 চার দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনকারী কিছু শিক্ষকের প্রভাব
🔸 প্রাইভেট পড়ানো শিক্ষক গ্রুপের দ্বন্দ্ব
🔸 প্রশাসনিক অচলাবস্থা
🔸 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল বুলিং
🔸 সিনিয়র–জুনিয়র দ্বন্দ্বের সংস্কৃতি
এগুলোই পুরো পরিবেশকে আরও ঘোলাটে করছে।

প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম টুকু অভিযোগ করেন—“পরীক্ষা নিতে ম্যাজিস্ট্রেট আসলেও আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বাধা দেন। এখন সেই শিক্ষকরাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।”

অন্যদিকে জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার জানান—“পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ৭ ডিসেম্বর পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে নিতে আইন–শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত থাকবে।”

অভিভাবকদের উদ্বেগ:
— “বড়রা নাকি বলেছে, ৭ ডিসেম্বর জুনিয়রদের ‘মজা দেখানো’ হবে। আমরা খুব আতঙ্কে আছি।”
— “পরীক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।”

সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি স্কুলের সমস্যা নয়—এটি শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর সংকটের প্রতিফলন। এখনই প্রশাসন–শিক্ষক–অভিভাবকদের একসঙ্গে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, না হলে যেকোনো সময় আরও বড় সহিংসতা ঘটতে পারে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

সর্বোচ্চ পঠিত

ছাত্রদল নেতার পিতার মৃত্যুতে বিএনপি নেতা মিঠু খানের শোক

ফেসবুক পোস্ট ডিলেটকে কেন্দ্র করে সরকারি বালক বিদ্যালয়ে সংঘর্ষে আহত ৩ শিক্ষার্থী!

আপডেট সময়: ০১:৩৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয়ে আবারও সহিংসতা! ফেসবুকে ভিডিও–পোস্ট ডিলেট না করাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) জুনিয়র–সিনিয়র দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত হয়েছে তিন শিক্ষার্থী। অষ্টম শ্রেণির ইরফান আজম খান ও আরেফিন চৌধুরী, এবং সপ্তম শ্রেণির বাদশাহ শিহাবুল গুরুতর আঘাত পায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি—লোহার স্কেল, কলম ও ইট দিয়ে তাদের ওপর হামলা করা হয়। এরই মধ্যে আরেক পক্ষ প্রতিশোধ হিসেবে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ভাই ভাই মোটরসাইকেল শো রুমে’ হামলা চালিয়েছে—যার ভিডিও ইতোমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল। শুধু তাই নয়, মঙ্গলবারও শিক্ষক আন্দোলনের কারণে পরীক্ষা বন্ধ, সাংবাদিক হেনস্তা, ছাত্র বিভক্তি—সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এক গভীর সংকটে।

মূল সংকট কোথায়?
🔸 চার দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনকারী কিছু শিক্ষকের প্রভাব
🔸 প্রাইভেট পড়ানো শিক্ষক গ্রুপের দ্বন্দ্ব
🔸 প্রশাসনিক অচলাবস্থা
🔸 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল বুলিং
🔸 সিনিয়র–জুনিয়র দ্বন্দ্বের সংস্কৃতি
এগুলোই পুরো পরিবেশকে আরও ঘোলাটে করছে।

প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম টুকু অভিযোগ করেন—“পরীক্ষা নিতে ম্যাজিস্ট্রেট আসলেও আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বাধা দেন। এখন সেই শিক্ষকরাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।”

অন্যদিকে জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার জানান—“পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ৭ ডিসেম্বর পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে নিতে আইন–শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত থাকবে।”

অভিভাবকদের উদ্বেগ:
— “বড়রা নাকি বলেছে, ৭ ডিসেম্বর জুনিয়রদের ‘মজা দেখানো’ হবে। আমরা খুব আতঙ্কে আছি।”
— “পরীক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।”

সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি স্কুলের সমস্যা নয়—এটি শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর সংকটের প্রতিফলন। এখনই প্রশাসন–শিক্ষক–অভিভাবকদের একসঙ্গে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, না হলে যেকোনো সময় আরও বড় সহিংসতা ঘটতে পারে।