আজ বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
সাতক্ষীরায় এইচএসসি পরীক্ষায় ভূগোল প্রথম পত্রের বদলে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন সাতক্ষীরার মাটিতে প্রথম ‘বাইকুনুর’ আঙুর চাষ, ১০ মাসেই বাম্পার ফলন বাঁশ ও গোবর সার কাণ্ডে স্ট্যান্ড রিলিজ সাতক্ষীরার সেই কৃষি কর্মকর্তা সাতক্ষীরায় দ্রুত ডাক সার্ভিসের নামে পোস্ট অফিসের প্রতারণা, ১৪ দিনেও পৌঁছায়নি জরুরি নথি নিম্নচাপের প্রভাবে সাতক্ষীরায় বৃষ্টি, বিপাকে উপকূলীয় অঞ্চলের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সাতক্ষীরায় ৭৬ শতাংশ নারীই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহিংসতার শিকার এনটিভির ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাতক্ষীরায় ছাত্রদলের ফুলেল শুভেচ্ছা খুলনা বিভাগীয় ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনে যুক্ত হলো সাতক্ষীরা জেলা কমিটি অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ৩৫ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ জাতির সঙ্গে যারা বেইমানি করেছে, তাদের ঠাঁই বাংলাদেশে হবে না : ছাত্রশিবির সভাপতি সাদ্দাম

এক নজরে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন

  • জাতীয় ডেস্ক
  • আপডেট সময়: ০৪:৫২:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৪৫ বার পড়া হয়েছে

বেগম খালেদা জিয়া (জন্ম: ১৫ আগস্ট ১৯৪৫) বাংলাদেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশসমূহের মধ্যেও দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করলে পরবর্তীতে তিনি দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপার্সন।

দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার একজন ব্যবসায়ী এবং মা তৈয়বা মজুমদার ছিলেন গৃহিণী। তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন এবং একই বছর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন। তাদের দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো; কোকো ২০১৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অধীনে আটক ছিলেন।

১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান হত্যার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের আহ্বানে তিনি ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। দ্রুতই তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বে সাতদলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয় এবং সামরিক শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন পরিচালিত হয়।

  1. প্রথম মেয়াদ (১৯৯১–১৯৯৬):
    ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। তার সরকার দেশে পূর্ণাঙ্গ সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।

  2. দ্বিতীয় মেয়াদ (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬):
    বিরোধী দল বর্জিত নির্বাচনে স্বল্প সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। গণআন্দোলনের পর সংসদ ভেঙে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা হয়।

  3. তৃতীয় মেয়াদ (২০০১–২০০৬):
    চারদলীয় জোট নির্বাচন জিতে সরকার গঠন করে এবং তিনি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হন।

১৯৯৬–২০০১ ও ২০০৯–২০১৪ সাল পর্যন্ত দুই দফায় তিনি বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হন, যদিও পরবর্তী সময়ে অধিকাংশ মামলায় তিনি খালাস বা জামিন পান।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের “বিশ্বের ক্ষমতাবান ১০০ নারী” তালিকায় ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে তিনি যথাক্রমে ১৪তম, ২৯তম ও ৩৩তম অবস্থানে ছিলেন।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

সর্বোচ্চ পঠিত

সাতক্ষীরায় এইচএসসি পরীক্ষায় ভূগোল প্রথম পত্রের বদলে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন

এক নজরে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন

আপডেট সময়: ০৪:৫২:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

বেগম খালেদা জিয়া (জন্ম: ১৫ আগস্ট ১৯৪৫) বাংলাদেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশসমূহের মধ্যেও দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করলে পরবর্তীতে তিনি দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপার্সন।

দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার একজন ব্যবসায়ী এবং মা তৈয়বা মজুমদার ছিলেন গৃহিণী। তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন এবং একই বছর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন। তাদের দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো; কোকো ২০১৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অধীনে আটক ছিলেন।

১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান হত্যার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের আহ্বানে তিনি ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। দ্রুতই তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বে সাতদলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয় এবং সামরিক শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন পরিচালিত হয়।

  1. প্রথম মেয়াদ (১৯৯১–১৯৯৬):
    ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। তার সরকার দেশে পূর্ণাঙ্গ সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।

  2. দ্বিতীয় মেয়াদ (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬):
    বিরোধী দল বর্জিত নির্বাচনে স্বল্প সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। গণআন্দোলনের পর সংসদ ভেঙে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা হয়।

  3. তৃতীয় মেয়াদ (২০০১–২০০৬):
    চারদলীয় জোট নির্বাচন জিতে সরকার গঠন করে এবং তিনি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হন।

১৯৯৬–২০০১ ও ২০০৯–২০১৪ সাল পর্যন্ত দুই দফায় তিনি বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হন, যদিও পরবর্তী সময়ে অধিকাংশ মামলায় তিনি খালাস বা জামিন পান।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের “বিশ্বের ক্ষমতাবান ১০০ নারী” তালিকায় ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে তিনি যথাক্রমে ১৪তম, ২৯তম ও ৩৩তম অবস্থানে ছিলেন।