আজ শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত সভাপতি মনির, সাধারণ সম্পাদক লিটন ব্যাংকের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে গোরস্থান ও মাদ্রাসার জায়গা দখলের চেষ্টা সামাদ গংয়ের ছাত্রদল নেতার পিতার মৃত্যুতে বিএনপি নেতা মিঠু খানের শোক ভিডিএফের সাতক্ষীরা জেলা নির্বাহী কমিটি নির্বাচনে সভাপতি হোসেন আলী, সম্পাদক ইব্রাহিম যৌতুকের মামলায় আশাশুনির সাবেক এসিল্যান্ড কারাগারে নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সভাপতির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে শিক্ষকদের জোরপূর্বক স্বাক্ষর, দ্বন্দ্বের প্রভাব এসএসসি ফলাফলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা জানতে সাতক্ষীরার উপকূলে দিনব্যাপী অভিযাত্রা পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, সাবেক মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’ অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় নদী-খাল পুনরুদ্ধার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক পরামর্শ সভা

সাতক্ষীরায় দ্রুত ডাক সার্ভিসের নামে পোস্ট অফিসের প্রতারণা, ১৪ দিনেও পৌঁছায়নি জরুরি নথি

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ১২:৩৮:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ৯৫ বার পড়া হয়েছে
জরুরি চিঠি, নথিপত্র বা পার্সেল দ্রুত ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে দ্রুত ও গ্যারান্টিযুক্ত ডাক সার্ভিস (গ্যারান্টিড এক্সপ্রেস পোস্ট)। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের এমন চটকদার ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ ও পেশাজীবীরা। সাতক্ষীরা প্রধান ডাকঘরের চরম উদাসীনতা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা আর অব্যবস্থাপনায় ‘এক্সপ্রেস’ সার্ভিসের নামে গ্রাহকদের সাথে রীতিমতো প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। চড়া মাশুল দিয়েও দুই সপ্তাহে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা, উল্টো দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
জানা যায়, গত ২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরা প্রধান ডাকঘর থেকে ‘গ্যারান্টিড এক্সপ্রেস পোস্ট’ এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি অতি জরুরি দাপ্তরিক নথিপত্র পাঠানো হয়। কিন্তু পাঠানোর দীর্ঘ ১৪ দিন পার হয়ে আজ ১৬ জুলাই হলেও সেই অতি জরুরি নথিটি প্রাপকের ঠিকানায় পৌঁছায়নি।
ভুক্তভোগী পেশাজীবী মো. হোসেন আলী জানান, চিঠি পৌঁছাতে অস্বাভাবিক দেরি হওয়ায় তিনি সাতক্ষীরা প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার দেবাশীষ কর্মকারের দ্বারস্থ হন। তখন পোস্টমাস্টার অনলাইনে ট্র্যাকিং চেক করে আশ্বস্ত করেছিলেন, দুই-একদিনের মধ্যে প্রাপক চিঠি হাতে পেয়ে যাবেন। কিন্তু আজ (১৬ জুলাই) পুনরায় তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আবারও অনলাইনে চেক করে এক অদ্ভুত ও দায়িত্বহীন তথ্য দেন। তিনি জানান, অতি জরুরি সেই নথিটি ঢাকা থেকে নাকি আবারও সাতক্ষীরাতেই ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, সরকারি সেবার এমন নজিরবিহীন গাফিলতির কোনো সদুত্তর না দিয়ে পোস্টমাস্টার দেবাশীষ কর্মকার ভুক্তভোগী গ্রাহককে সরাসরি ডাকপিওনের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে দ্রুত নিজের কক্ষ ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে ডাকপিওনদের কক্ষে গিয়ে যোগাযোগ করা হলে নির্ধারিত ডাকপিওন আক্তারুল ইসলাম জানান, আমার কাছে এখনো কোনো চিঠি আসেনি, আসলে আপনাকে কল দেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরা প্রধান ডাকঘরে এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও এক তরুণ পেশাজীবী হাবিবুল ইসলাম অত্যন্ত জরুরি নথিপত্র সম্বলিত একটি খাম ঢাকাতে পাঠানোর জন্য এই এক্সপ্রেস সার্ভিসে বুকিং করেছিলেন। কিন্তু একই কায়দায় দীর্ঘদিন সময়ক্ষেপণ করে, প্রাপকের কাছে না পাঠিয়ে সেই চিঠিটি আবারও সাতক্ষীরায় ফেরত পাঠানো হয়।
গ্রাহকদের প্রশ্ন, যে চিঠি রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা, তা প্রাপকের ঠিকানায় না গিয়ে কেন এবং কার ভুলে পুনরায় সাতক্ষীরায় ফেরত আসছে? আর ফেরত আসার পরেও কেন তা গ্রাহককে না জানিয়ে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হচ্ছে?
​এ অব্যবস্থাপনার বিষয়ে ডাক বিভাগের দক্ষিণাঞ্চল, খুলনার পোস্টমাস্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্বে) কবির আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
দ্রুততম সময়ে এই “গ্যারান্টিড এক্সপ্রেস পোস্ট” এর নামে চলা প্রহসন ও কর্মকর্তাদের খামখেয়ালিপনা বন্ধে ডাক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাতক্ষীরাবাসী।
ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত সভাপতি মনির, সাধারণ সম্পাদক লিটন

সাতক্ষীরায় দ্রুত ডাক সার্ভিসের নামে পোস্ট অফিসের প্রতারণা, ১৪ দিনেও পৌঁছায়নি জরুরি নথি

আপডেট সময়: ১২:৩৮:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
জরুরি চিঠি, নথিপত্র বা পার্সেল দ্রুত ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে দ্রুত ও গ্যারান্টিযুক্ত ডাক সার্ভিস (গ্যারান্টিড এক্সপ্রেস পোস্ট)। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের এমন চটকদার ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ ও পেশাজীবীরা। সাতক্ষীরা প্রধান ডাকঘরের চরম উদাসীনতা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা আর অব্যবস্থাপনায় ‘এক্সপ্রেস’ সার্ভিসের নামে গ্রাহকদের সাথে রীতিমতো প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। চড়া মাশুল দিয়েও দুই সপ্তাহে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা, উল্টো দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
জানা যায়, গত ২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরা প্রধান ডাকঘর থেকে ‘গ্যারান্টিড এক্সপ্রেস পোস্ট’ এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি অতি জরুরি দাপ্তরিক নথিপত্র পাঠানো হয়। কিন্তু পাঠানোর দীর্ঘ ১৪ দিন পার হয়ে আজ ১৬ জুলাই হলেও সেই অতি জরুরি নথিটি প্রাপকের ঠিকানায় পৌঁছায়নি।
ভুক্তভোগী পেশাজীবী মো. হোসেন আলী জানান, চিঠি পৌঁছাতে অস্বাভাবিক দেরি হওয়ায় তিনি সাতক্ষীরা প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার দেবাশীষ কর্মকারের দ্বারস্থ হন। তখন পোস্টমাস্টার অনলাইনে ট্র্যাকিং চেক করে আশ্বস্ত করেছিলেন, দুই-একদিনের মধ্যে প্রাপক চিঠি হাতে পেয়ে যাবেন। কিন্তু আজ (১৬ জুলাই) পুনরায় তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আবারও অনলাইনে চেক করে এক অদ্ভুত ও দায়িত্বহীন তথ্য দেন। তিনি জানান, অতি জরুরি সেই নথিটি ঢাকা থেকে নাকি আবারও সাতক্ষীরাতেই ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, সরকারি সেবার এমন নজিরবিহীন গাফিলতির কোনো সদুত্তর না দিয়ে পোস্টমাস্টার দেবাশীষ কর্মকার ভুক্তভোগী গ্রাহককে সরাসরি ডাকপিওনের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে দ্রুত নিজের কক্ষ ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে ডাকপিওনদের কক্ষে গিয়ে যোগাযোগ করা হলে নির্ধারিত ডাকপিওন আক্তারুল ইসলাম জানান, আমার কাছে এখনো কোনো চিঠি আসেনি, আসলে আপনাকে কল দেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরা প্রধান ডাকঘরে এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও এক তরুণ পেশাজীবী হাবিবুল ইসলাম অত্যন্ত জরুরি নথিপত্র সম্বলিত একটি খাম ঢাকাতে পাঠানোর জন্য এই এক্সপ্রেস সার্ভিসে বুকিং করেছিলেন। কিন্তু একই কায়দায় দীর্ঘদিন সময়ক্ষেপণ করে, প্রাপকের কাছে না পাঠিয়ে সেই চিঠিটি আবারও সাতক্ষীরায় ফেরত পাঠানো হয়।
গ্রাহকদের প্রশ্ন, যে চিঠি রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা, তা প্রাপকের ঠিকানায় না গিয়ে কেন এবং কার ভুলে পুনরায় সাতক্ষীরায় ফেরত আসছে? আর ফেরত আসার পরেও কেন তা গ্রাহককে না জানিয়ে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হচ্ছে?
​এ অব্যবস্থাপনার বিষয়ে ডাক বিভাগের দক্ষিণাঞ্চল, খুলনার পোস্টমাস্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্বে) কবির আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
দ্রুততম সময়ে এই “গ্যারান্টিড এক্সপ্রেস পোস্ট” এর নামে চলা প্রহসন ও কর্মকর্তাদের খামখেয়ালিপনা বন্ধে ডাক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাতক্ষীরাবাসী।