মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে টানা তিনদিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি, মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। একই সঙ্গে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরাও পড়েছেন ভোগান্তিতে।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৫ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চলে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। কাঁচা ও গ্রামীণ সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় চলাচলেও দুর্ভোগ বেড়েছে।
বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালক, নির্মাণশ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষের আয়-রোজগারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বৃষ্টির কারণে প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না। বাজার-হাট ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে, চলমান এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। বৃষ্টির কারণে অনেক পরীক্ষার্থীকে ভিজেই পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। পরীক্ষা শেষে যানবাহনের সংকট ও বৃষ্টির কারণে বাড়ি ফিরতেও পড়তে হয়েছে দুর্ভোগে।
উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থী করিমন নেছা বলেন, আজ আমার ইংরেজি পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা ভালো হয়েছে। তবে পরীক্ষা শেষে বৃষ্টির কারণে কেন্দ্রে আটকে আছি। বাসায় ফিরতে পারছি না। যানবাহনও খুব কম চলাচল করছে, তাই গাড়ি পেতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।
ভ্যানচালক আব্দুল জলিল বলেন, সকাল থেকে কয়েকবার বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময় মানুষ বাইরে কম বের হয়, তাই যাত্রীও কম। বৃষ্টির কারণে ভ্যান নিয়ে বের হলেও তেমন ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। সংসার চালাতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে। সারাদিনে যে আয় হওয়ার কথা, তার অর্ধেকও হচ্ছে না।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকর আলী বলেন, রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী আরও দুই দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তাই সবাইকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, আগামী কয়েকদিন একইভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে কৃষি, মৎস্য খাত এবং স্বাভাবিক জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ার পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
সাতক্ষীরার নাগরিক নেতারা বলছেন, জলাবদ্ধতা জেলার দীর্ঘদিনের একটি জটিল সমস্যা হলেও এর স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটে। সাময়িকভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলেও সমস্যার মূল কারণগুলো দূর না করায় ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলছে না।
তাদের মতে, শহর ও আশপাশের এলাকার খাল, খাড়ি ও জলনিকাশী নালা পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত না করলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। একই সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
রিপোর্টার 










